হিন্দু ধর্ম এর সংস্কার মানুষকে আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্ব হিসাবে গড়ে তোলে যা মানুষকে সন্তোষ লাভ করতে সাহায্য করে ।ধর্মীয় আচার ও পদ্ধতি আমাদের সমস্ত দুর্বলতা কাটিয়ে নিজেকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে ।
শাস্ত্র পাঠ করলে জানা যায় ভারতের প্রাতঃ স্মরণীয় ঋষি রা ভোগ বিলাস ,সুখ স্বাচ্ছন্দের মতো বাহ্যিক বিষয় অর্থাৎ ভৌতিক বিষয়ে নিয়ে ভাবার চেয়ে । অনিবার্য লক্ষ্য হওয়া আধ্যাত্মিক জ্ঞান প্রাপ্তি ।
আমাদের বেদে মাতৃ জঠর জন্ম নেওয়া একটি শিশুর আবির্ভাব থেকে ,বড় হওয়া , পরিশেষে আমাদের এই নশ্বর দেহ ত্যাগ করা পর্যন্ত এই দীর্ঘ এই জীবনে পরিক্রমায় বিভিন্ন রকমের সংস্কারের বিধান দিয়েছে হিন্দু ধর্ম ।
ভারতীয় সংস্কৃতি সুপ্রাচীন আর এই সংস্কৃতি একই সংস্কার সম্পন্ন সমাজ ও মানুষ তৈরি করা । অনুজরা অগ্রজের প্রণাম করলে অগ্রজ অনুজের মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেন --" মানুষের মতো মানুষ হও ।"
এই মানুষের মত মানুষ হওয়ার অর্থই সংস্কার কে আশ্রয় করে জীবন যাপন ও চলার পাথেয় করে বড় হবার চেষ্টা করা । মানুষের জীবনে স্বাচ্ছন্দ ,সুখ ,ভোগ বিলাস কাম্য হতে পারে । তবে মনে রাখতে হবে পার্থিব আকাঙ্খা গুলি জীবনের সব নয় । মানুষের একমাত্র কাম্য নয় । এই সংস্কার মানব জীবনে খুব জরুরী । সংস্কার মনের বিকার ,মনের ক্লেশ দূর করে । প্রাচীন কালে আমাদের মুনি ঋষি বিশ্বাস করতেন জন্ম জন্মান্তরের কামনা বাসনার প্রভাব থাকে জীবাত্মার উপর ওপর । পূর্বের জন্মের সেই সব সংস্কারের অনুরূপ ন্তুন শরীর ধারন করে । আর সেই সংস্কার এর অনুরূপ কর্মের প্রতি আসক্তি হয় । অতএব দেখা যাচ্ছে জীব সর্বদাই সংস্কারের দাস ।
একথা আমরা জানি , সর্বদা মানুষের আকর্ষণ থাকে নানা ধরনের ভোগের দিকে । এই আকর্ষণ এড়িয়ে যাওয়া মানুষের প্রায়শঃ সম্ভব হয় না । আর এই ধরনের স্বাভাবিক প্রবণতা এবং স্বভাবের দুর্বলতা র কারনে নানা রকম বিকৃতি এবং দুর্বলতার স্বীকার হয়ে পড়ে । ফল স্বরুপ সেই মানুষ গুলি যে বাস করে সেই সমাজ সেই বিকৃতি ও দুর্বলতার স্বীকার হয়ে পড়ে । সেই সমাজ ও চরিত্র হীনতা ও অনৈতিকতার স্বীকার হয় ।
No comments:
Post a Comment